চট্টগ্রাম, ৩১ আগস্ট : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আবারও তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে প্রায় পৌনে ১টা পর্যন্ত উত্তরা আবাসিক ২ নম্বর গেটে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ২০–২১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন দিক থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষার্থীরাও জড়ো হয়ে হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, তবে স্থানীয়দের সংখ্যাগত সুবিধার কারণে শিক্ষার্থীরা বারবার পিছু হটেন। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একজন সদস্যও আহত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল থেকেই তারা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। তবে এক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানোর পর সেনাবাহিনী চলে গেলে দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠ সমাধান চান, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া উদ্যোগ সফল হয়নি।
জানা গেছে, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বাসায় প্রবেশ করতে গেলে দারোয়ানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নেয়, এবং স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়ান।
রাত দেড়টার দিকে ২ নম্বর গেট এলাকায় সংঘর্ষের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, এই সময় বহু শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। সংঘর্ষের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন জানান, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের আজ পরীক্ষা ছিল। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan